Contact Us

01913704318

Address

Mohammadpur, Dhaka.

Cancer news by prof Dr kazi Mushtaq Hossain

Share This Post

  • ক্যান্সার বার্তা
  • অধ্যাপক ডাঃ কাজী মুশতাক হোসে
  • সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি (বি সি এস)
  • ক্যান্সার নিয়ে যেমন, তেমনি এর চিকিৎসা নিয়ে অনেক ভুল ধারনা আমাদের রয়েছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক খরচ বলে একটা কথা চালু আছে। কিন্তু কতটা ব্যয় বহুল তা নিয়ে অধিকাংশ মানুষেরই কোন ধারনা নাই। হ্যা গরীব মানুষের যাওয়ার জায়গা নাই। সরকারী হাসপাতাল ছাড়া উপায় নাই। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি অনেকেই নিজেকে গরীব বলেন আবার ঠিকই বিদেশে গিয়ে ঘুরে আসছেন। অনেকেই চাদা তুলে চিকিৎসা করেন, আবার বড়লোক রুগীর জন্য অনেকেই সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেন কিন্তু গরীব আত্মীয় কে মোটেও সাহায্য করেন না। যা হোক, ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং সার্জারি তে টাকা লাগবে। বাংলাদেশে সার্জারির খরচ অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম। বিদেশে যে কেমোথেরাপি নিতে কোটি টাকা খরচ হয় সেই কেমোথেরাপি বাংলাদেশে নিতে পাচ লাখ টাকাও লাগবে না। একজন বিদেশে গিয়ে পঁয়তাল্লিশ লক্ষ টাকায় যে কেমো নিয়েছেন, দেশে নিলে পনের লাখের বেশী খরচ হতো না। ব্রেষ্ট ক্যান্সারের কেমো তে তিরিশ হাজার থেকে ক্ষেত্র ভেদে কয়েক লাখ লাগে, তবে তা সবার জন্য না, অনেক ক্ষেত্রে আরও কম। আগে আমাদের দেশে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হতো না, ভারতে গিয়ে তিরিশ চল্লিশ লাখ খরচ হতো কিন্তু এখন দেশে তা দশ লাখেই সম্ভব। মুল বিষয় হচ্ছে ক্যান্সার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের স্টেজ বা বিস্তারের উপর। সব স্টেজে সব চিকিৎসা লাগে না। অনেকেই বিদেশে গিয়ে বিরাট অপারেশন করিয়ে আসেন কিন্তু সেটা কোন কাজেই আসে না। কারন শুধু অপারেশন করলেই হবে না পরবর্তীতে কেমোথেরাপী, রেডিওথেরাপী ইত্যদি লাগবে। রেডিওথেরাপী তে সরকারী হাসপাতালে পাচ থেকে তিরিশ হাজার আর বেসরকারি হাসপাতালে সর্বোচ্চ তিন লাখ। এটাও বিদেশের তুলনায় কম। সবার আগে জানতে হবে রোগ কোন পর্যায়ে আছে এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্নয় করতে পারলে চিকিৎসার খরচ এবং জটিলতাও কম থাকে। সাফল্যের হারও অনেক বেশী। অনেক ধরনের ক্যান্সার এখন নিরাময় যোগ্য। রোগ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা করা জটিল হয়ে পড়ে এবং সাফল্যের হারও কমতে থাকে। ক্যান্সার অনেকাংশেই বয়স্কদের রোগ। তাই ক্যান্সারের পাশাপাশি অন্যান্য অসুখের যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ইত্যাদিরও চিকিৎসা করতে হয়। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্যান্সার। ক্যান্সার সম্পুর্ন প্রতিরোধ করা যায় না। তবে রিস্ক ফ্যাক্টর গুলোকে বর্জন করতে পাড়লে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আবার রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই রোগ নির্নয়ের ব্যবস্থা করতে পাড়লে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। একে স্ক্রীনিং বলে। উন্নত দেশ সমুহে স্ক্রীনিং এর সুব্যবস্থা থাকায় সেসব দেশে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্নয় করা যায়। এজন্য উন্নত দেশ সমুহে চিকিৎসার সাফল্য বেশী। আমাদের দেশে স্ক্রীনিং এর ব্যবস্থা কেবলই শুরু হচ্ছে। সরকারী বেসরকারী প্রচার প্রচারনা বৃদ্ধি করে জনসাধারনকে সচেতন করে তুলতে হবে। যেন তারা এই স্ক্রীনিং পদ্ধতির পরীক্ষাগুলো করান। আমাদের দেশে অহেতুক পরীক্ষা করানো হয় বলে প্রায়ই অপপ্রচার চালানো হয়। অসুখ বিসুখ হলে যেমন পরীক্ষা করতে হয় তেমনি অসুখ লক্ষণ দেয়ার আগেই নির্নয়ের জন্যও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে একবার চিকিৎসা শেষ করলেই সব সমস্যা মিটে গেল তা নয়। রোগটি যে কোন সময় আবার ফিরে আসতে পারে। আর তাই চিকিৎসার পর নিয়মিত চেক আপ করতে হবে, যেন রোগ ফিরে আসার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করা যায়। আর এজন্য রোগীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা জরুরী। এর পাশাপাশি আমরা সবাই মিলে ক্যান্সার নামের এই ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে জোড়দার লড়াই করতে পারি। আমরা একে অপরকে সচেতন করতে পারি, সাহায্য করতে পারি। সামাজিক আন্দোলন করতে পারি সব ধরনের ক্ষতিকারক পদার্থের আমদানী, উৎপাদন, ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য। সামাজিক সংগঠন সমুহ এব্যাপারে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করতে পারে। রাষ্ট্রীয় ভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক পদার্থের আমদানী, রফতানী ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করতে পারি । আন্তর্জাতিক ভাবে রাষ্ট্র সমুহ এই ধরনের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধের মাধ্যমে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করতে পারে। আর এই সব আন্দোলন সমুহ আপনি, আমি শুরু করতে পারি। তাই বলি সচেতন হোন , সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More To Explore